
নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে অবস্থিত জামাল ইয়ার্ন ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকা মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগে মামলা করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, নারায়ণগঞ্জ। ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ভ্যাটের হিসাব পর্যালোচনা করে এ অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার টানবাজার এলাকার এস এম মালেহ রোডে অবস্থিত জামাল ইয়ার্ন ট্রেডিং আমদানিকারক ও সরবরাহকারী হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে। সম্প্রতি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের নিবারক দল প্রতিষ্ঠানটিতে আকস্মিক পরিদর্শন চালায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের মজুত পণ্য ও হিসাব ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাটসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলাদি উপস্থাপন করতে পারেনি বলে জানায় কমিশনারেট।
পরে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন রেজিস্টার, হিসাবের খাতা, চালান বই, গার্ড ফাইল, কম্পিউটার থেকে সংগৃহীত এক্সেল ফাইলের কপি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিবৃতি জব্দ করা হয়। এসব নথিপত্র প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে বিক্রয় ও ভ্যাট পরিশোধের হিসাবে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা নথিপত্রে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট ৬৫৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ টাকার সুতা বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। এসব বিক্রির বিপরীতে ৫ ও সাড়ে ৭ শতাংশ হারে প্রযোজ্য ভ্যাটের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪২ টাকা।
অন্যদিকে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি দাখিলপত্রে ৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩০ টাকার বিক্রি দেখিয়েছে। একই সময়ে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট হিসেবে জমা দিয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, এতে অনাদায়ী ভ্যাটের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকা।
কমিশনারেটের দাবি, প্রতিষ্ঠানের এ কার্যক্রম মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, ২০১৬-এর বিভিন্ন বিধানের লঙ্ঘন। অনাদায়ী ভ্যাট আদায়ের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী জরিমানা ও ১২৭ ধারায় সুদ আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এনবিআরের এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিক্রয় হিসাব, ভ্যাটসংক্রান্ত নথিপত্র এবং সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।