নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার ১০৭তম ধার্য তারিখেও আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা র্যাব। অন্যদিকে, আদালতের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা না করায় মামলার অন্যতম আসামি রিফাত বিন ওসমানকে নিজস্ব আইনজীবীসহ তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১ নভেম্বর) মামলার ধার্য তারিখে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বাবু ও আবু ইশতিয়াক সিদ্দিকী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় র্যাব মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার ধার্য তারিখে আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক জমশেদ কারাগার থেকে আদালতে হাজির হন।
এদিকে, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আদালতে হাজির না হওয়ায় আসামি সুলতান শওকত ভ্রমর, সালেহ রহমান সীমান্ত ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
অন্যদিকে, জামিনে থাকা আসামি তায়েফ উদ্দীন জ্যাকি, ইউসুফ হোসেন লিটন, কাজল হাওলাদার, সাফায়েত হোসেন শিপন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ ও রিফাত বিন ওসমান আদালতে সশরীরে হাজিরা দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৪ ডিসেম্বর।
মামলার নথি অনুযায়ী, এর আগে ১০৬তম ধার্য তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রিফাত বিন ওসমানকে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। তবে সেই নির্দেশনা অনুসারে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেননি। এ কারণে এবার নিজস্ব আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছেন র্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার।
যেভাবে হত্যা করা হয় ত্বকীকে
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ঘটনার তদন্তে সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেন লিটনসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। তাঁদের মধ্যে ভ্রমর ও লিটন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তাঁরা দাবি করেন, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছিল।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ র্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ওসমান পরিবারের নির্দেশে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে তাদের টর্চার সেলে ত্বকীকে হত্যা করে। একই সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়েনি।
এদিকে, ত্বকী হত্যার বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সংগঠনটি প্রতি মাসের ৮ তারিখে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচির মাধ্যমে ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে।
দীর্ঘ সময়েও অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় ত্বকী হত্যার বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।