
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের মালিকানাধীন হোসিয়ারী কমিউনিটি সেন্টারের একটি অফিস কক্ষ জোরপূর্বক দখল করে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের নেতারা। অভিযোগে অফিস কক্ষটি দখলমুক্ত করা, কমিউনিটি সেন্টারে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে কিনা তা তদন্ত এবং ভবিষ্যতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এসোসিয়েশনের অভিযোগ, গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় দুটি সংবাদমাধ্যমে হোসিয়ারী কমিউনিটি সেন্টারকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, হোসিয়ারী কমিউনিটি সেন্টার ভবনটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ীর কাছে বৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সেখানে জন্মদিন, সুন্নতে খতনা, বিবাহসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এসোসিয়েশনের একটি অফিস কক্ষ দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে সংগঠনটির প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত ‘হোসিয়ারী মিলনায়তন সন্ত্রাসীদের ডেরা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে কমিউনিটি সেন্টারটি ঘিরে সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে আসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরসহ বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশন এসব অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির নেতারা বলেন, তাদের মালিকানাধীন ভবন কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর কিংবা অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও এসোসিয়েশনের সম্পৃক্ততা নেই।
অভিযোগে বলা হয়, বিষয়টি এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এছাড়া গত ২৮ জুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রসিকিউশন), নারায়ণগঞ্জের মৌখিক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিউনিটি সেন্টার ভবনের মালিকানা ও কর পরিশোধসংক্রান্ত নথিপত্র এবং সংগঠনের সভাপতির লিখিত জবানবন্দি দাখিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত অফিস কক্ষটি দখলমুক্ত করার বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এসোসিয়েশনের নেতাদের ভাষ্য, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কমিউনিটি সেন্টারের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষও সেখানে সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে কমিউনিটি সেন্টারের ভাড়াটিয়া এবং বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশন উভয়েই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি তাদের।
এ অবস্থায় ভবন ও সংশ্লিষ্ট অফিস কক্ষ দখলমুক্ত করা, সেখানে কোনো আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড হচ্ছে কিনা তা তদন্ত করা, ভবনের মালিকানা ও দখলের বিষয়টি যাচাই করে এসোসিয়েশনের বৈধ দখল নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কমিউনিটি সেন্টারে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তার দায় যেন বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের ওপর বর্তায় না, সে বিষয়টিও পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “যারা বলছে, তাদের জিজ্ঞেস করবেন—দখল কাকে বলে, দখলের ব্যাখ্যা কী? এখানে দখলের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমি কোনো দখলই করিনি। হোসিয়ারি সমিতি যারা কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে চালায়, তাদের অফিস কক্ষে আমি মাঝে মাঝে বসি।”
তিনি আরও বলেন, “আর যারা বলছে, এখানে ওসমান পরিবারের দালাল ও ওসমান পরিবারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত করতে এ ধরনের কথা বলা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কমিউনিটি সেন্টারের অফিস কক্ষের মালিকানা ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিষয় তদন্তের পরই প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।