নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। তবে এই তালিকায় নেই জেলার কোনো উপজেলার নাম না থাকলেও টিকা দিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে ভিড় করেন অভিভাবকরা।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ও দুপুরে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সন্তানকে আগাম হামের টিকা দেওয়ার জন্য তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় অভিভাবকদের। তবে, অনেকেই টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন।
এগারো মাসের ছেলে আব্দুল্লাহকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফতুল্লার কুতুবপুর এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিক মো. বুলবুল। এ সময় তার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।
বুলবুল বলেন, “কয়েক দিন আগেই আমার ছেলের জ্বর হয়েছিল, শরীরে লাল লাল গোটার মতো কিছু উঠেছিল। তবে এখন কিছুটা সুস্থ আছে। তাই আজ গার্মেন্টসে না গিয়ে বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি টিকা দিতে। তবে এসে শুনি, বিশেষ টিকা এখনো নারায়ণগঞ্জে আসেনি।”
টিকা দিতে ঢাকার মাতুয়াইলে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম জানান, তার চার বছরের ছেলে রাফসান আহমেদ রাফিকে হামের প্রথম টিকা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দ্বিতীয়টি দেওয়া হয়নি। বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির কথা শুনে এখানে এসেছেন টিকা দেওয়ার জন্য।
হামের প্রভাবের কথা চিন্তা করেই আগেভাগে টিকা নিতে এসেছেন তিনি। তবে বাচ্চা সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে বলেও জানান ফাতেমা।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী সুমা সাহা বলেন, “আমাদের নারায়ণগঞ্জে হামের বিশেষ টিকা প্রদানের কর্মসূচি এখনো শুরু হয়নি। আমরা হয়তো পরের ধাপে সংযুক্ত হবো যদি এদিকে তেমন প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তখন পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “হাম-রুবেলার প্রথম টিকা সবসময় দেওয়া হচ্ছে। কখনো নারায়ণগঞ্জে ঘাটতি ছিল না। এখনও পর্যায়ক্রমে ৯ ও ১৬ মাস বয়সী শিশুদের দেওয়া হচ্ছে। তবে হামের বিশেষ কর্মসূচি এখনও শুরু হয়নি।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমান বলেন, “হামের বিশেষ টিকা কার্যক্রমে নারায়ণগঞ্জ নেই, কারণ এখানে হাম পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক আছে। জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত হাম সন্দেহে আমরা ৩৬টি নমুনা পাঠিয়েছি। তার মধ্যে ১১টি পজেটিভ এসেছে। তাদের মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়েছে, আর অনেকের চিকিৎসা চলছে। আগামীতে নারায়ণগঞ্জেও বিশেষ টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।”
তবে, সিভিল সার্জন জানান, জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা দুই শিশু ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন, যাদের হামে আক্রান্ত ছিলেন।
হাম টিকার পর্যাপ্ত মজুদ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের হাতে ৭৫ হাজার ডোজ টিকা মজুদ আছে। যারা কোনোদিন হামের টিকা পায়নি, আমরা তাদের খুঁজে খুঁজে টিকা দিচ্ছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছে।