নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হামের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। প্রথম শিশুর মৃত্যুর পরপরই আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকার পর্যাপ্ত টিকা মজুত রেখে যায়নি, তবে দ্রুত গ্যাভি (ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স) ও ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্ক-এ অবস্থিত লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারিতে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান শুরু হয়েছে এবং সোমবার থেকে সারাদেশে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে হামে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো দুর্যোগ কতদিনে নিয়ন্ত্রণে আসবে তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে মহামারী বলা যাবে না। যারা জরুরি অবস্থা ঘোষণার কথা বলছেন, তারা বিষয়টি না বুঝেই বলছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঢাকায় হামের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেক রোগী অন্যান্য জেলা থেকে আসছে। ঢাকাতেও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার চেষ্টা চলছে।
এর আগে সকাল ৮টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, জেলা সিভিল সার্জন এএফএম মুশিউর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, দেশব্যাপী জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সব স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় এই কর্মসূচি ২০ মে পর্যন্ত এবং অন্যান্য এলাকায় ১২ মে পর্যন্ত চলবে।