
নারায়ণগঞ্জে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা, দেশীয় খেলাধুলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব ও সামাজিক সংগঠন ‘স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাহেদ আহমেদ।
তিনি বলেছেন, ‘স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ’ কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিজস্ব সংগঠন হবে না। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক উন্নয়ন, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হবে এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি হাইস্কুল মাঠে ‘স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাহেদ আহমেদ।
সংগঠন প্রতিষ্ঠার পেছনের ভাবনা তুলে ধরে সাহেদ আহমেদ বলেন, রাজনীতির উদ্দেশ্যে তিনি ‘স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ’ গড়ে তোলেননি। ২০০২ সালে কলেজজীবন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হলেও স্কুল-কলেজের অনেক বন্ধু বিভিন্ন কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে পারেননি। কেউ ভয় পেয়েছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক কারণে নানা সমস্যার আশঙ্কা করেছেন। সেই বাস্তবতা থেকেই সবাইকে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একত্র করার চিন্তা তাঁর মাথায় আসে।
তিনি বলেন, “সবার সম্মতিতে আমাকে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের অভিভাবকেরা অনুমতি দিলে চলতি সপ্তাহেই সংগঠনটির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার উদ্যোগ নেব।”
‘স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ’-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সাহেদ আহমেদ জানান, চলতি বছর সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও জেলার তরুণদের সংগঠিত করতে চান তাঁরা। প্রতিটি এলাকায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করার জন্যও তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তাঁর মতে, তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে সমাজে ভালো পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
শিক্ষা ও খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে সাহেদ আহমেদ বলেন, একটি জাতিকে দুর্বল করার পরিকল্পনায় শিক্ষা ও খেলাধুলাকে ধ্বংস করার বিষয়টিও ছিল। গত ১৭ বছরে সমাজব্যবস্থায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে হলে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে শৈশবের মতো সামাজিক সম্প্রীতি, মুরব্বিদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে চান তাঁরা।
মাদক, কিশোর গ্যাং ও সাইবার অপরাধের মতো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এসব সমস্যা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি নিয়ে সাহেদ আহমেদ বলেন, সরাসরি কাবাডি খেলা দেখার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য নতুন। এ ধরনের আয়োজন একদিকে যেমন গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ’-এর মাধ্যমে ভবিষ্যতেও নিয়মিত খেলাধুলা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সংগঠনের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে সাহেদ আহমেদ বলেন, “স্বপ্নের নারায়ণগঞ্জ কখনো কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত হবে না। এলাকার মানুষের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে রনি ভাই, টিপু ভাই, সাখাওয়াত আঙ্কেলসহ রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও অনেকেই এ উদ্যোগে সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশা করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর, ইতিবাচক ও মানবিক নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলাই তাঁদের প্রত্যাশা।
সাহেদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। প্রধান বক্তা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. হাসান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল প্রধান, জেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী নুর নাহার বেগম, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল প্রধান ও বিএনপি নেতা হাজী কামাল।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অদুদ সাগর, মিনহাজ মিঠু, বাদশা খান, আশিকুর রহমান অনি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদল নেতা আসলাম মাহমুদ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কাবাডি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি স্থানীয় তরুণদের মধ্যে খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আগ্রহ তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।