
‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ, অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাফি বিন কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী নূর খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এবং জেলা তথ্য কর্মকর্তা রিনা পারভীন। এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তথ্য পাওয়া নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। রাষ্ট্র ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত এবং নাগরিকসেবা সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো স্বপ্রণোদিতভাবে কিংবা নাগরিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ও সঠিক তথ্য সরবরাহ করলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “তথ্যই শক্তি। তথ্য অধিকার আইনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।” ডিজিটাল যুগে গুজব ও অপতথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে অপতথ্য ও গুজবের বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। এজন্য সরকারি দপ্তরগুলোকে আরও স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্নীতি কমানো এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। তথ্য চাইতে আসা কোনো নাগরিক যেন হয়রানি বা অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখোমুখি না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, নাগরিকরা যাতে সহজে ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, নাগরিকের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সহজীকরণ, সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সঠিক তথ্য প্রচারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভা শেষে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন এবং জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।