
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে নাঈম খাঁন (৫৯) নামে এক বৃদ্ধ চা দোকানিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের মারধরে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় একই পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের উত্তর শিমরাইল এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাঈম খাঁন ওই এলাকার মৃত গফুর খাঁনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত নাঈম খাঁনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী মো. হোসেন (৫০) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও হুমকি-ধমকির ঘটনা ঘটত।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন শনিবার সকাল ৬টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন চলাচলের রাস্তার ওপর জোরপূর্বক টিনের বেড়া নির্মাণ করেন। এ নিয়ে নাঈম খাঁনের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, দুপুরে জোহরের নামাজ আদায় শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের বসতবাড়ির সামনে পৌঁছালে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এর প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নাঈম খাঁন। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিকেল ৩টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মোছা. হিরা আক্তার বাদী হয়ে মো. হোসেন (৫০), তাঁর ছেলে মো. ইকবাল হোসেন (২৫) ও স্ত্রী মায়া আক্তারকে (৪৪) আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ৭ নভেম্বর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১২। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, এ ঘটনায় নিহতের মেয়ের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ঘটনার পর রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযুক্তদের প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।