
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ ও স্বর্ণকার শাহীন আলমের বিরুদ্ধে। এ সময় একটি ভেকু নিয়ে শতাধিক লোকজন বাড়িটির সামনে জড়ো হন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি শিমরাইল নতুন পাম হাউজের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী মো. জয়নাল আবেদীন জানান, তার নানা কালাচান সরদার ওই জমির মূল মালিক ছিলেন। প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা ওই জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছেন। তার মা জহুরা বিবি নানার ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমির পাশাপাশি অন্য ওয়ারিশদের কাছ থেকেও কিছু জমি ক্রয় করেন। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ জমির ওপর তাদের দুই ভাই ও দুই বোনের চারটি বাড়ি রয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ সালে আহমেদ গংদের সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে মামলা চলমান রয়েছে।
জয়নাল আবেদীনের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হঠাৎ হারুন অর রশীদ ও শাহীন আলমের নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন নিয়ে তাদের বাড়ি দখলের চেষ্টা করা হয়। এ সময় একটি ভেকুও সেখানে নিয়ে আসা হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সারারাত নির্ঘুম অবস্থায় কাটান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়িটি দখলের তৎপরতার পাশাপাশি ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না করা এবং উল্টো অভিযুক্তদের সহযোগিতা করার জন্য কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে দুই লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে ওই রাতের ঘটনার প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ বলেন, “আমি মীমাংসা করতে গিয়েছি, দখল করতে যাইনি। আমাকে সেখানে মীমাংসার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমি শান্তির পক্ষের মানুষ।”
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “অন্যায়ভাবে কাউকে জমি দখল করতে দেওয়া হবে না। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তার সমাধান করতে হবে। কেউ জোরপূর্বক জমি দখল করতে পারবেন না। ৯৯৯-এ কল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জমির প্রকৃত মালিকানা ও রাতের ঘটনার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।