নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
কোনো বাস্তব প্রমাণ ছাড়া জুলাই আন্দোলনের একের পর এক হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার অ্যাকাউন্টে দেয়া একাধিক স্ট্যাটাসে রাজনৈতিক দলটির সমালোচনা করেন তিনি।
ফৌজদারি বিচার ও মানবাধিকার সম্পর্কে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী অথবা ইসলামী ছাত্র শিবিরের অবস্থান জানতে চেয়ে ডেভিড বার্গম্যান স্ট্যাটাসে লিখেন, “জামায়াতে ইসলামী কি প্রমাণ-ভিত্তিক ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা সমর্থন করে, যেখানে বিশ্বাসযোগ্য এবং বাস্তব প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার এবং অব্যাহত আটক করা হয়? তাহলে কোন ভিত্তিতে নাসিক সাবেক মেয়র আইভীর অব্যাহত আটককে সমর্থন করে, যেখানে তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দায়ের করা কোনও মামলাতেই পুলিশ কথিত হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার বাস্তব প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি?
আওয়ামী লীগের সাথে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বাইরে তার অব্যাহত কারাবাসের আইনি যুক্তি কী? প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লিখেন, “আইভী এখন নয় মাস আটক আছেন। জামায়াতও কি সাম্প্রতিক জামিন বিষয়ে পুলিশের সিদ্ধান্ত সমর্থন করে, যেখানে কোনো প্রমাণ ছাড়া আইভীকে জুলাইয়ের আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো? তারা কি মনে করে না, এটি ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার, যা আদালতের কর্তৃত্বকে কার্যকরভাবে এড়িয়ে যাওয়া এবং ক্ষুন্ন করা?”
‘আইভীর মামলার প্রেক্ষাপটে ওঠা প্রশ্নগুলি, আরও বিস্তৃত এবং তাৎপর্যপূর্ণ উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটায়’ উল্লেখ করে ডেভিড বার্গম্যান বলেন, “আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত আরও অনেকে প্রকাশ্যে প্রমাণ প্রদর্শন না করেই আটক আছেন। জামায়াতে ইসলামী কি বিচারিক বা অন্যান্য সিদ্ধান্ত সমর্থন করবে যা, প্রমাণ না থাকায় এই ব্যক্তিদের মুক্তি অনুমতি দেবে? নাকি রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত সিদ্ধান্তগুলিকে সমর্থন করবে যা, আটককের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করে? আরও বিস্তৃতভাবে বলতে গেলে, জামায়াতে ইসলামী কি ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেবে যাতে গ্রেপ্তার এবং জামিনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে যাচাইযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হয়?”
সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে, জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিকীকরণের পরিণতি বুঝে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তাদের নিজস্ব অনেক নেতাকে পর্যাপ্ত বা প্রকৃতপক্ষে কোনও প্রমাণ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে গ্রেপ্তার এবং আটক করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে দলটি কী শিক্ষা নিয়েছে? এখন কি তারা বিরোধীদের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুশীলনে সমর্থন করবে, নাকি ভবিষ্যতে নির্যাতনমূলক গ্রেপ্তার এবং আটক প্রতিরোধের জন্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে কথা বলবে?”
“বর্তমানে মনে হচ্ছে, দলটি মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষাকে ক্ষুন্ন করে এমন জনপ্রিয় বক্তব্যকে সমর্থন করছে। এই অবস্থানে কি দলটি থাকতে চায়?” বলে যোগ করেন তিনি।
এর আগে সকালে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ফের গ্রেপ্তারের একটি নিউজ লিংক শেয়ার করে ডেভিড বার্গম্যান লিখেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ে আরেকটি হত্যা মামলায় নাসিক সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সম্পূর্ণ অপব্যবহার। যদি আপনাদের মনে থেকে থাকে, ২০২৫ সালের মে মাসে আইভীকে মূলত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তাকে আরও চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা দেখানোর মতো কোনো প্রমাণ ছিল না।”
তিনি আরও লিখেন, “২০২৫ সালের নভেম্বরে হাইকোর্ট এই পাঁচটি মামলার জামিন মঞ্জুর করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ আইভীকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আরও পাঁচটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। সবগুলো একইভাবে প্রমাণ ছাড়াই। মামলাগুলোতে তাকে গ্রেপ্তার হয়েছিল, শুধু তার মুক্তির সম্ভাবনা রোধ করার জন্য। গত সপ্তাহে হাইকোর্ট এই পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছে। অনুমান করুন, পুলিশ এবার কী করেছে? আইভীকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অপব্যবহার। এটা শতভাগ রাজনৈতিক।