
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থেকে নিখোঁজের সাত দিন পর চাপাইনবাবগঞ্জের তরুণ সিয়াম আলীকে (১৯) ঢাকার মুগ্ধা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, সিয়াম নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন বেগুনবাড়ি গ্রামের সাদিকুর রহমানের ছেলে সিয়াম আলী নারায়ণগঞ্জ বন্দরে লেবার সরদার সহিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে প্রায় তিন থেকে চার মাস ধরে কাজ করছিলেন। গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
এদিকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সিয়ামের সন্ধান না পেয়ে লেবার সরদার সহিদুল ইসলামকে সন্দেহ করেন। এ ঘটনায় সহিদুল ইসলাম বন্দর থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যার নম্বর ১৫৪০, তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২৬।
সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও সিয়ামের সন্ধান না মেলায় বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএমের নজরে আসে। পরে তিনি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও উদ্ধারের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিয়ামের অবস্থান শনাক্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকার ডিএমপির মুগ্ধা থানাধীন উত্তর মুগ্ধা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সিয়াম অপহরণের শিকার হননি; বরং নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। উদ্ধার শেষে তাঁকে লেবার সরদার সহিদুল ইসলাম ও তাঁর ভাই আমিনুলের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের এ অভিযানের মধ্য দিয়ে সাত দিন ধরে চলা সিয়ামের নিখোঁজ থাকার ঘটনার অবসান হয়েছে।