
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেছেন, ফ্যাসিবাদী দোসররা শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিভিন্ন শিল্পকারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। তাই শ্রমিকদের এসব ষড়যন্ত্রকারীর ফাঁদে পা না দিয়ে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার বিভিন্ন শিল্পকারখানার সামনে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, গত তিন-চার দিন ধরে দেশের বৃহৎ গার্মেন্টস শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একটি গোষ্ঠী শ্রমিক আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে।
তিনি বলেন, শিল্প বাঁচলে শ্রমিক বাঁচবে, শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে। এ দেশ শ্রমিক, মালিক ও সাধারণ জনগণ—সবার। তাই জাতীয় স্বার্থে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
শ্রমিকদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে যুবদলের এই নেতা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী মজুরি বোর্ড গঠন করেছেন। ইতোমধ্যে টেলিভিশনে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা বর্ধিত মজুরি পাবেন। কত টাকা মজুরি নির্ধারণ করা হবে, তা মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। সরকার শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই নিজেদের কর্মস্থল কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না। কারণ, প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও বিলুপ্ত হবে। এতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়বে। যারা শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের অপতৎপরতা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজ করে শ্রমিকরা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন, সেই প্রতিষ্ঠান রক্ষার দায়িত্বও তাঁদের রয়েছে। ধৈর্য ধারণ করে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে। শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নেবে, সেগুলো বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের স্বার্থ ও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করতে হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন রিপন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে এলাহী সোহাগ, সাজ্জাদ হোসেন কমল, সদস্য রাফি উদ্দিন রিয়াদ ও সাইফুল ইসলাম আপন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম হারুনসহ মহানগর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।