
নারায়ণগঞ্জে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কারখানায় ভাঙচুর, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী, শিবু মার্কেট, ফতুল্লা, সাইনবোর্ড, সানারপাড় ও আদমজী ইপিজেডসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা শ্রমিক আন্দোলনের সর্বশেষ পরিস্থিতি, শিল্পকারখানার নিরাপত্তা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট অত্যন্ত ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, কোনো অবস্থাতেই যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা না হয়।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁরা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করছেন এবং শ্রমিকদের ওপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকছেন।
তবে আন্দোলনের আড়ালে কোনো অপরাধী চক্র যাতে শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর কিংবা নাশকতা চালিয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, যারা কারখানায় ভাঙচুর ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাসহ কয়েকটি শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং স্বাভাবিক উৎপাদন পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নজরদারি ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।