
নারায়ণগঞ্জের চলমান শ্রমিক অসন্তোষকে পরিকল্পিত আখ্যা দিয়ে পোশাকশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি মহল এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তাঁর দাবি, চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ প্রকৃত পোশাকশ্রমিক নন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নগরীর চাঁদমারিতে চেম্বার ভবনে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। এবারও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোশাকশিল্পের মালিকরাও শ্রমিকদের মজুরি দিতে সম্মত। ফলে নতুন করে অসন্তোষ তৈরির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা কোনো শ্রমিকের আন্দোলন নয়। ৩০ হাজার টাকা বেতন কোনো দাবি নয়। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করতে এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি মহল সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করছে। তবে এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। গত ১৭ বছর ধরে অনেকে গার্মেন্টস শিল্প ও শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। বাংলাদেশকে আর দাবিয়ে রাখা যাবে না। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ পোশাক কারখানার শ্রমিক নন বলেও দাবি করেন সংসদ সদস্য দিপু। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে পাঁচ শতাধিক পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১২ থেকে ১৩টি কারখানায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। অথচ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো পোশাক কারখানার শ্রমিক নন বলে তাঁর দাবি।
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্নভাবে লোকজন এসে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টসে সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ এলাকায় কোনো সমস্যা হয়নি। একটি নির্দিষ্ট স্থানে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে সড়ক অবরোধের উদ্দেশ্যে এ অসন্তোষ সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জবাসী ঐক্যবদ্ধ থাকায় তারা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি।’
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের অর্থনীতি ও শিল্পকারখানার ক্ষতি হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো উচিত নয়। ‘আমরা সবাই মিলে আমাদের বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ক্ষতি করা যাবে না। দেশকে আর অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবেন না। আমাদের সময় দেন’—বলেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ, বিকেএমইএর সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, চেম্বারের সহসভাপতি আবু জাফর, পরিচালক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, সোহেল আক্তার, গোলাম সারোয়ার সাঈদ, আহমেদুর রহমান তনু ও মজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।