
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেকে একজন শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন নিয়েও সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি গার্মেন্টস শিল্প ও দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থ রক্ষা করে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ চাই। শ্রমিকদের কোনো দোষ নেই। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা শ্রমিকদের উসকে দিয়ে নারায়ণগঞ্জের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কোনোভাবেই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। দেশের বিরুদ্ধে ও জনগণের স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য ও তালিকা তৈরি করে তাঁর কাছে জমা দিতে হবে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে সাখাওয়াত বলেন, দেশের মানুষ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ সরকারকে বিব্রত করা এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় শ্রমিকদের পাশে রয়েছে। শ্রমিকরা যেন ন্যায্য মজুরি পান, তিন বেলা ভালোভাবে খেয়ে জীবনযাপন করতে পারেন এবং তাঁদের সন্তানরা শিক্ষার সুযোগ পেয়ে ভবিষ্যতে উন্নত জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। শ্রমিকদের জীবনমান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। শ্রমিকরা নিজেরা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেন না; বরং তাঁদের আন্দোলনকে পুঁজি করে একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।
দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের অবদান তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশে এ শিল্পের বিকাশের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে শ্রীলঙ্কার পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ও ভাঙচুরের প্রেক্ষাপটে সেখানকার উদ্যোক্তাদের একটি অংশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হন। এর ধারাবাহিকতায় দেশে পোশাকশিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশি-বিদেশি একটি চক্র বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে দুর্বল ও ধ্বংস করে এ খাতের উৎপাদন অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দেশের পোশাকশিল্পের মালিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষকে দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ, গার্মেন্টস শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত শ্রমিকরা।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক এস এম আসলাম, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ, সদস্য শহীদুল ইসলাম, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রাকিবুর রহমান সাগরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।