
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খানের নারায়ণগঞ্জ সফরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সক্রিয় উপস্থিতি ও সাংগঠনিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ অপু। সাইনবোর্ডে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে রাশেদ খানকে বরণ করে নেওয়া থেকে শুরু করে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর সঙ্গে থাকা এবং সফর নির্বিঘ্ন করতে নেতাকর্মীদের নিয়ে সহযোগিতা—পুরো আয়োজনেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে মো. রাশেদ খানের গাড়িবহর নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় পৌঁছালে শেখ মোহাম্মদ অপুর নেতৃত্বে যুবদলের নেতাকর্মীরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তাঁকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় অপুর সফরসঙ্গী হিসেবে দায়িত্ব পালন।
সাইনবোর্ড থেকে অপুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের একটি দল রাশেদ খানের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সফরের প্রথম পর্যায়ে তাঁরা সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি এলাকায় জৈনপুরী হুজুর এনায়েতউল্লাহ আব্বাসীর বাসভবন ‘আব্বাসী মঞ্জিলে’ যান। সেখানে এনায়েতউল্লাহ আব্বাসীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাশেদ খান।
এরপর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। এসব সাক্ষাতে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
রাশেদ খানের সফরের প্রতিটি পর্যায়ে শেখ মোহাম্মদ অপুর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়, বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং অতিথিকে যথাযথ সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে নিজের সাংগঠনিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন মহানগর যুবদলের এই নেতা। তাঁর এ ভূমিকা রাজনৈতিক সৌজন্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিদায়বেলায় সফরজুড়ে পাশে থাকা শেখ মোহাম্মদ অপু ও তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান মো. রাশেদ খান।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ অপু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান নারায়ণগঞ্জে আসবেন—এ উপলক্ষে তাঁকে স্বাগত জানাতে আমরা নেতাকর্মীদের নিয়ে সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থান নিই। তিনি নারায়ণগঞ্জের মেহমান। তাঁকে যথাযথ সম্মান জানানো এবং ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়াকে আমরা আন্তরিক দায়িত্ব বলে মনে করি।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে। আমরা চাই, নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় থাকুক, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকুক এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন জনজীবনে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে।
রাশেদ খানের নারায়ণগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁকে স্বাগত জানানো থেকে শুরু করে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে সঙ্গে থাকা এবং সার্বিক সহযোগিতা করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। তাঁর সফর যেন সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখিয়েছি।
নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল। এ জেলার শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখা জরুরি। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে একটি সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
মো. রাশেদ খানের এই সফরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। ভবিষ্যতেও দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই।”
রাজনৈতিক সৌজন্য, সাংগঠনিক সক্রিয়তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যয়—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে রাশেদ খানের সফরে শেখ মোহাম্মদ অপুর ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। দলের কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত রাখা এবং অতিথির সফরে সহযোগিতার মধ্য দিয়ে মহানগর যুবদলের এই নেতা নিজের সাংগঠনিক তৎপরতার পরিচয় তুলে ধরেছেন।