নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
রংপুর জেলা প্রতিনিধ:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ জুলাই আন্দোলনের সব শহিদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঞ্চিত রংপুরকে উন্নয়নের মূলধারায় আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’-এর বিশেষ স্মরণসভায় অংশ নেওয়ার আগে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৬ জুলাইয়ের আত্মত্যাগই ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করে এবং দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। তিনি বলেন, “বঞ্চিত রংপুরকে উন্নয়নের মূলধারায় এনে আলোকিত করাই আমাদের লক্ষ্য। জুলাইয়ের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।”
তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও আদর্শ সংরক্ষণ এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক একটি দপ্তর গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগ গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিচার হবে আইনের শাসনের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “১৬ জুলাই আবু সাঈদের রক্তে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। জুলাই যোদ্ধাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শহিদ আবু সাঈদের বাবা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলাম, ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সিসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।