নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়নসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১০ জুন মামলাটির সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমান, শ্যালক তানভীর আহম্মেদ টিটু, অয়ন ওসমানের সম্বন্ধি মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, সাংবাদিক রাজু আহম্মেদ, নাসিকের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, মহানগর যুবলীগের সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন সাজনু, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র। মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের শহর, ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় পৃথক ঘটনায় ১০ জন নিহত হন। এসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেন। এতে বহু মানুষ আহত হন। প্রসিকিউশনের দাবি, এ ঘটনার অন্যতম প্রধান আসামি শামীম ওসমান।
প্রসিকিউশন আরও জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শামীম ওসমান তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন। সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড ও সিডিআর ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও শহর এলাকায় হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালানোর পর সহিংসতা সিদ্ধিরগঞ্জ ও চিটাগং রোড এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।