
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস, অস্ত্রধারী ও অন্যান্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান আরও কার্যকর করতে জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিভিন্ন সাম্প্রতিক অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলার থানাগুলোতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের পাশাপাশি মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার এবং মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জকে একটি শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারেন এবং ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশ নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।”
অপরাধ দমনে জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশ সুপার বলেন, অপরাধীদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। এ জন্য নারায়ণগঞ্জবাসী, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
এসপি বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসী, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, সাংবাদিক ও সচেতন সমাজের কাছে আমাদের অনুরোধ—অপরাধীদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন। আপনাদের সহযোগিতা পেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্রসংক্রান্ত ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মাদক, সন্ত্রাস, অস্ত্রধারী ও অন্যান্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ গড়তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।