
নারায়ণগঞ্জ মহানগরকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব সাহেদ আহমেদ। যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রেখে দক্ষ, শিক্ষিত ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদে পরিণত করার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাংয়ের কোনো স্থান হবে না।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি শেষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাহেদ আহমেদ বলেন, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাঁদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হলো নারায়ণগঞ্জ মহানগরকে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত রাখা। তরুণদের বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে এনে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বিকাশে কাজ করতে চায় মহানগর যুবদল।
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজকে কীভাবে শক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তাদের দক্ষতা বাড়ানো যায় এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় শিক্ষিত করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জের যুবক, তরুণ ও ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যে মাদক কারবার ও নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক অভিযোগও তোলেন মহানগর যুবদলের এই নেতা। তাঁর দাবি, দেশের বাইরে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি উসকানি ও অর্থায়নের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। অন্য জেলা থেকেও লোকজন এনে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।
রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রসঙ্গে সাহেদ আহমেদ বলেন, “যারা চোরের মতো দেশের বাইরে পালিয়ে যায়, তারা নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্ব দেবে কীভাবে? নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্ব দিতে হলে বুকের তাজা রক্ত দেওয়ার মতো সৎ সাহস থাকতে হবে।”
নিজেদের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁদের জেল খাটানো হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে এবং নানা ধরনের অত্যাচার করা হয়েছে। তারপরও তাঁরা রাজপথ ছাড়েননি। চাষাড়ার মাটিতে ‘ওসমান সম্রাট’কে নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্ব দিতে দেওয়া হবে না বলেও বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে সাহেদ আহমেদ বলেন, তাঁর কথা ও কাজ থেকে নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত নেওয়ার কথা তাঁরা মনে করেন। যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাঁদের প্রত্যাশা, নারায়ণগঞ্জ হবে এমন একটি নগরী, যেখানে তরুণেরা অপরাধ নয়, বরং শিক্ষা, দক্ষতা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। এ সময় তিনি ‘তারেক রহমানের নারায়ণগঞ্জ’ গড়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
এদিকে, যুবদলের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন সাহেদ আহমেদ। তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে অর্থায়নের মাধ্যমে একটি পক্ষ সংগঠনের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। মাদক ব্যবসা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের মহানগর যুবদলে কোনো স্থান দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে ওসমান পরিবার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সাহেদ আহমেদ বলেন, এসব কর্মকাণ্ড তাঁদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। তাঁদের কোনো ব্যক্তিগত শত্রু নেই দাবি করে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে যাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, তাঁদেরই প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেন তাঁরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে সাহেদ আহমেদের মূল বার্তা ছিল—যুবসমাজকে অপরাধমুক্ত রাখা, তরুণদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় এগিয়ে নেওয়া এবং নারায়ণগঞ্জে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।