নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোট মনোনীত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ‘পাশে চিহ্নিত চাঁদাবাজ, গডফাদার ও সন্ত্রাসী বসিয়ে’ পেশিশক্তি ও কালো-টাকা ছড়ানোর অভিযোগ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ও সমমনা ১০ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ভবনের একটি রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
গত ১৪ জানুয়ারি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী প্রেস ক্লাবে অপর এক মতবিনিময় সভায় ‘নির্বাচনী মাঠে পেশিশক্তি ও কালো-টাকা ছড়ানোর’ শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ ধরনের শঙ্কা এনসিপিরও আছে কিনা জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “বিগত দিনে বিএনপি জোটের প্রার্থী কথা বলেছেন, অন্যান্য প্রার্থীরাও কথা বলেছেন। আমরা শুধু মুখেই এই কথা শুনতে চাই না।”
“যিনি পেশিশক্তি বা কালো-টাকার ছড়াছড়ি দেখতে পাচ্ছেন, ওনার আশেপাশেই এমন লোকজন বসে থাকতেছে, যাকে তার জোটের লোকজনই বলতেছে- চিহ্নিত চাঁদাবাজ, চিহ্নিত গডফাদার, চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এই ধরনের পরিস্থিতি আমরা দেখতে চাই না। মুখে বলবো একটা, কাজে করবো আরেকটা- এই রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতেই তরুণ প্রজন্মের আমরা রাজনীতিতে এসেছি।”
এনসিপির এ প্রার্থীর অভিযোগ, পোশাক কারখানা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করা ব্যক্তিকেও বিএনপি জোটের প্রার্থীর পাশে বসা দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই ধরনের দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির অবসান চান বলেও মন্তব্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের।
সাধারণ ভোটারদের ‘বাড়িতে-বাড়িতে গিয়ে হুমকি’ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলে আল আমিন আরও বলেন, “আমরা দশ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ। কোনো কালো টাকার কাছে আমরা মাথা নত করবো না। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের কোনো প্রটেকশন আমরা আগেও দেইনি, আগামীতেও দেবো না।”
সাধারণ ভোটাররা ভোট নিয়ে উৎফুল্ল থাকলেও সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে তাদের শঙ্কা রয়েছে বলেও জানান এ সংসদ সদস্য প্রার্থী।
তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ-৪ সন্ত্রাসের কবলে জর্জরিত একটা আসন ছিল। ভোটাররা এখন দেখছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অতীতের সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং-গুলো একোমোডেট হচ্ছে। এবং ৫ আগস্টের পরও যারা চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত হয়েছে, তারাও নানাভাবে বিভিন্ন প্রার্থীদের সাথে একোমোডেট হচ্ছে। এতে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট হবে কিনা তা নিয়ে ভোটারদের আশঙ্কা রয়ে গেছে।”
গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল- এনসিপিকে নিয়ে সাধারণ মানুষের আশা, আকাঙ্খা ও আগ্রহ রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ কেবল মুখের কথায় নয়, আসলেই রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন চান।
“গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে কে হেভিওয়েট, কার অতীত পরিচয় কী, তার চেয়ে কার দ্বারা রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন হবে, মানুষের আশা-আকঙ্খার পূরণ করবে- সেইটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় রাজনৈতিক দল এবং এনসিপির সমন্বয়ে যে দশ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে, তরুণ ও ধর্মপ্রাণ মানুষের যে অংশ সেইসাথে বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে, এই জোটটা বাংলাদেশের পরিবর্তনে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিতে পারবে”, যোগ করেন আল আমিন।
যদিও অতীতের মতো টাকা ও ক্ষমতা দিয়ে ‘ভোট ম্যানুপুলেশেন’র শঙ্কাও প্রকাশ করেন তরুণ এ রাজনীতিক।
সাংবাদিকদের সামনে নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পরিচয়ও তুলে ধরেন আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরে বেড়ে উঠলেও আইন বিভাগে পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্র জীবনের প্রারম্ভে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে তিনি এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব। একইসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয় কমিটিরও প্রধান।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, সীমান্ত হত্যা আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনেও তরুণদের সংগঠিত করেছেন বলেও জানান আব্দুল্লাহ আল আমিন।
তিনি বলেন, তার সংসদীয় আসনের ফতুল্লা অঞ্চলটি ভৌগলিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিগত সময়ে জনপ্রতিনিধিরা এখানে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। শীতের দিনেও এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা, রাস্তা-ঘাট ভাঙা, দূষণে কবলিত, মাদকে সয়লাব, সন্ত্রাসের অভয়ারন্য। এ এলাকায় গায়ের জোর ও পেশিশক্তির রাজনীতি চলতো।
“এই আসনটা এক ধরনের রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও নাগরিক ন্যূনতম সুবিধা না থাকার সুন্দর নজির। দশ দলীয় জোট দেশপ্রেম, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান এবং বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার রাজনীতি আমরা করতে চাই। অবহেলিত ও দুর্বৃত্তায়নের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটিতে পরিবর্তন আনতে চাই। সেই নেগেটিভ ব্র্যান্ডিং এলাকাকে পজেটিভ ব্র্যান্ডিং-এর এলাকায় নিয়ে যেতে চাই। শ্রমিক ও কর্মজীবী শ্রেণির বাসযোগ্য এলাকা আমি গড়তে চাই”, বলেন তিনি।
জাতীয় যুবশক্তির সংগঠক নিরব রায়হানের সঞ্চালনায় এ মতবিনিময় সভায় দশ দলের পক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সাব্বির আহমাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক আলামিন রাকিব বক্তব্য রাখেন।
এদিকে, এনসিপি প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী এ প্রতিবেদককে বলেন, “আমি তাকে একজন্য ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু ওই নেতারা কারা সেই নামগুলো আমাকে সরবরাহ করলে আমি তাদের বিষয়ে খোঁজখবর করবো, এতে আমি নিজেও উপকৃত হবো। আমি সবসময় ভালো মানুষ নিয়ে কাজ করেছি এবং করতে চাই। ওনাকে এই উপকারটা করার জন্য আমি আহ্বান জানাই।”