নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল হত্যা মামলায় কথিত ‘সিফাত বাহিনী’র প্রধান শেখ সিফাতসহ সাত আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার চার নারী আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
আদালত পুলিশ জানায়, বন্দর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামির প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত সাতজনের ১০ দিনের এবং চার নারী আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া সাত আসামি হলেন—বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার শেখ শাহিনের ছেলে মামলার প্রধান আসামি শেখ সিফাত (৩২), কদমরসুল এলাকার আলী আকবরের ছেলে জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন (২৯), একই এলাকার সুলাইমানের ছেলে মো. সিয়াম (২৫), বারপাড়ার রবিউল হোসেনের ছেলে মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), শাহী মসজিদ এলাকার সোবাহানের ছেলে রিয়াদ (৩৩), চিতাশাল এলাকার ইমরান আলীর ছেলে ইরফান (২৯) এবং চৌধুরীবাড়ি এলাকার সোহেলের ছেলে সিজান ওরফে জিসান (২৬)।
অন্যদিকে, তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া চার নারী হলেন—সালেহনগর এলাকার পারভেজের স্ত্রী মোসা. মিনারা (৩৫), একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা (৩৬), মাসুদ মিয়ার স্ত্রী নাসিমা এবং শাহী মসজিদ এলাকার দ্বীন ইসলামের স্ত্রী ইয়াসমিন (৪০)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হামলার ঘটনায় ইসলামী যুব আন্দোলনের বন্দর থানা (পশ্চিম) কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল (৪০) নিহত হন। হামলার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে বন্দরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরদিন শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি গত ২০ আগস্ট বন্দর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের আসামি করা হয়।
পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলা দায়েরের পর থেকেই বুলবুলকে আসামিরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেখ সিফাতের নেতৃত্বে কয়েকজন সহযোগী লোহার পাইপ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরদিন বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আগের ১৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে নয়টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তাদের একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে নেওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করবে পুলিশ বলে জানা গেছে।