
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দিনদুপুরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজনকে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি এই জেলায় যোগদানের পর থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের সময় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে বন্দরের সোনাচড়া এলাকার ঢাকেশ্বরী বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় দোকানে থাকা এক নারী ও দোকানদারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, রূপার গহনা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ২৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় বন্দর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল তদন্তে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—আনোয়ার হোসেন ওরফে আলী হোসেন (৩২), মিজান (২৬), অনিক (২২), সুমন বেপারী (৩৮) ও রাজু আহমেদ (২৪)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে তিনজন সরাসরি স্বর্ণের দোকানের ভেতরে ঢুকে ডাকাতিতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অপর দুজন দোকানের বাইরে অবস্থান করে সহযোগিতা করেছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১৩ হাজার ৭০০ টাকা, ১২ ভরি রূপা, স্বর্ণ ও রূপার প্রলেপ দেওয়া দুটি রুলি এবং একটি স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১৮ ইঞ্চি ও ১২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের দুটি ছুরি এবং একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে পুলিশ।
এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে ডাকাতদের পরনে থাকা শার্ট, গেঞ্জি ও প্যান্টও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিয়ে আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডাকাতির ঘটনা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।