
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ একটি দোতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে আংশিক সিলগালা করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) প্রশাসন। তবে ভবনটি পুরোপুরি সিলগালা না করে বাসিন্দাদের ভবনটি বসবাসের উপযোগী করার জন্য এক মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে পুরো ভবন সিলগালা করা হবে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়া এলাকায় মৃত শামছুল হকের মালিকানাধীন ভবনটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মইনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভবনটির নিচতলার একটি পরিত্যক্ত দরজা সিলগালা করা হয়। তবে অন্য একটি দরজা খোলা রাখা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং আংশিক সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা সুলতান আহমেদ বাধা দেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদরুল আলমের নির্দেশনায় ভবনটির আংশিক সিলগালা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় এর আগে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মালিকপক্ষকে তিন দফা নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় বুধবার ভবনটি সিলগালা করতে অভিযান চালানো হয়।
তবে পুরো ভবন সিলগালা না করার বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মইনুল ইসলাম বলেন, “সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবন মালিকপক্ষকে এক মাসের বিশেষ সময় দেওয়া হয়েছে। আপাতত একটি কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ভবনটি বসবাসের উপযোগী করতে না পারলে পুরো ভবন চূড়ান্তভাবে সিলগালা করে দেওয়া হবে। সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সাময়িকভাবে এ সিদ্ধান্ত শিথিল করা হয়েছে।”
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন মালিকপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভবনটিতে বসবাসকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিটি করপোরেশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর থাকবে স্থানীয়দের।