নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে ৫টি রিভারাইন পেট্রোল ভেসেল (আরপিভি) নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (১৭ জুন) নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সোনাকান্দায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (ডিইডব্লিউ) লিমিটেডে ‘কিল-লেয়িং’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, দেশের উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচটি রিভারাইন পেট্রোল ভেসেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভেসেলগুলো হস্তান্তর করবে এবং এসব ভেসেল ব্যবহারের মাধ্যমে কোস্টগার্ড জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মোহাম্মদ ফয়জুল হক বলেন, সরকারের ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতা অর্জন এবং দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশে ডিইডব্লিউ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কোস্টগার্ডের জন্য আধুনিক এসব রিভারাইন পেট্রোল ভেসেল নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
নির্মিতব্য প্রতিটি ভেসেলের দৈর্ঘ্য হবে ৩৮ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ৭ দশমিক ৯০ মিটার এবং গভীরতা ২ দশমিক ৪৫ মিটার। ২৩২ টন ডিসপ্লেসমেন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন এসব নৌযান ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম হবে। এছাড়া প্রতিটি ভেসেলে আধুনিক নেভিগেশন রাডার, জিপিএস, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নাইট ভিশন প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সংযোজিত থাকবে।
নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, কম গভীরতার নদীপথে চলাচলের উপযোগী এসব দ্রুতগতির ভেসেল কোস্টগার্ডের বহরে যুক্ত হলে নদী, মোহনা ও উপকূলীয় এলাকার দুর্গম ও সংকীর্ণ নৌপথে আরও কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এছাড়া সীমান্ত ও জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নজরদারি জোরদার, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং উদ্ধার কার্যক্রমে এসব নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি।