নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
বন্দরে নিখোঁজের ছয় দিন পর অটোরিকশাচালক মাসুদ রানা (৩৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব-১১। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. জুম্মান (২৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (০৫ জুলাই ২০২৬) বিকেলে বন্দর থানাধীন ঢাকেশ্বরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১, সিপিসি-১-এর একটি আভিযানিক দল।
গ্রেপ্তারকৃত জুম্মান বন্দর থানার রামনগর এলাকার মো. মনির হোসেনের ছেলে। অন্যদিকে নিহত মাসুদ রানা বন্দর থানার সোনাচরা এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে ছিলেন।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুরে অটোরিকশাচালক মাসুদ রানা কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের ছয় দিন পর ৪ জুলাই সকালে ১নং ঢাকেশ্বরী এলাকার বিল্লালের চায়ের দোকানের পেছনের একটি ডোবায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে পাঠায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং চুরি-ডাকাতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাসুদ রানার বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জের ধরেই গত ২৯ জুন থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে আসামিরা তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে যায়।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বিকেলে অভিযান চালিয়ে অন্যতম অভিযুক্ত জুম্মানকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-১১-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।