
নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পৃথক স্থানে পার্কিং করে রাখা দুটি স্টাফ বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ৩৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফতুল্লা থানায় বাস মালিক শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহাবুব আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম নাজমুল হাসান লিটন, যুবলীগ কর্মী মো. রুবেল, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি কাজী সাঈদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাজমুল হোসেন সবুজ, ফতুল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অহিদুর গাজী, ফতুল্লা থানা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল সালাম ওরফে ডিস সালাম, কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ সাইদুর রহমান শ্রাবণ, ফতুল্লা থানা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক লিপু ও দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিসের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল, যুবলীগ কর্মী রফেদ আলী, মামুন, সবুজ ও সুমনসহ এনামুল, সোহেল, রবিউল ইসলাম রাসেল, মো. অহিদ, আরাফাত খান, ইমরান পাপ্পু, আশরাফ, আমির ওরফে মুরগি আমির, অনিল, মনির মেম্বার, জাকির মেম্বার, আজমত আলী, নাহিদ হাসান সবুজ, মীর হোসেন মীরু, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এস এম শামীম ও ইমরান হোসেন শুভ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা শেখ রাসেল পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল বিন ইবুর নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী শাহাদাত হোসেন ফতুল্লার সন্তাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি নিজের মালিকানাধীন স্টাফ বাস দিয়ে পঞ্চবটি থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীবাড়ী রোডে যাত্রী পরিবহন করেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে তাঁর বাসটি শিবু মার্কেট এলাকার নাদিয়া প্লাজার সামনে পার্কিং করে চালক বাসায় চলে যান। রাত আনুমানিক ২টার দিকে পাশের একটি জুট গোডাউনের দারোয়ান ফোন করে বাসে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার বিষয়টি জানান।
পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বাসচালক, তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, আগুনে বাসটির সব আসন এবং ভেতরে থাকা গাড়ির কাগজপত্র পুড়ে যায়।
একই রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি রওশন আলী সরকারের মালিকানাধীন ‘আনন্দ বাস’ শিবু মার্কেটের একমি বিল্ডিংয়ের পাশে সুরুজের গ্যারেজের সামনে পার্কিং করা ছিল। এজাহার অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ওই বাসেও আগুন দেওয়া হয়। এতে বাসটির তিনটি আসন পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাস আলামত হিসেবে জব্দ করে। পরে বাস দুটি নিজ নিজ মালিকের জিম্মায় দেওয়া হয়।
মামলার বাদীর অভিযোগ, স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিসহ অজ্ঞাত ২০ থেকে ৩০ জন সংঘবদ্ধভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস দুটিতে অগ্নিসংযোগ করেন। তাদের হাতে লাঠিসোঁটা, দেশীয় অস্ত্র, পেট্রোল বোমা, ককটেল ও বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়, বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের পর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।