
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক জামায়াত নেতাকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা নয়ামাটি এলাকার ভাবির বাজারে তাঁর ডিম বিক্রির দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন (৩১) পাগলা নয়ামাটি এলাকার প্রয়াত আব্দুর রবের ছেলে। তিনি কুতুবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক।
দেলোয়ারের অভিযোগ, গত সোমবার দুপুরে পাগলা নাককাটা বাড়ি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই অর্থ থেকে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি ও স্থানীয় অন্যরা এতে বাধা দিলে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে দেলোয়ার উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে অভিযুক্তরা তাঁর ডিমের দোকানে এসে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় সাকিব কাঠের ডাসা দিয়ে তাঁর কপালে আঘাত করেন এবং রাসেল বাম চোখে ঘুষি মারেন। পরে কাজলের নির্দেশে অন্যরা তাঁকে মাটিতে ফেলে মাথা, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেলোয়ারের আরও অভিযোগ, তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকে খুন করে গুম করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে নারায়ণগঞ্জের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—আমিনুল ইসলাম কাজল (৪৫), রাসেল (২৮), সাকিব (২৭), দুলালের ছেলে আল-আমিন (২৫) ও নুরু (২৭)। তাঁদের সবার বাড়ি পাগলা নয়ামাটি এলাকায়।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে জানা যাবে।