নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের লাঙ্গলবন্দ এলাকায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদের পরিবারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি পক্ষের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন মাকসুদের সহধর্মিণী নার্গিস মাকসুদ। তাঁর অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপিপুত্র আবুল কাউসার আশা ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি পক্ষ লাঙ্গলবন্দে তাঁর ছেলে মাহামুদুল হাসান শুভর অফিসে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় অফিসে কর্মরত ম্যানেজারদের মারধর এবং পরে প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
নার্গিস মাকসুদের ভাষ্য, লাঙ্গলবন্দে তাদের নিজস্ব জায়গায় ছেলে মাহামুদুল হাসান শুভ একটি আধুনিক জিমনেসিয়াম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে চাপ ও হুমকির কারণে সেটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হন তারা। তাঁর দাবি, জিম সরিয়ে না নিলে তাদের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মামলা করা হবে—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে কোনো আইনি জটিলতায় না গিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জিমের সব সরঞ্জাম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে জিম সরিয়ে নেওয়ার পরও বিরোধের অবসান হয়নি বলে অভিযোগ করেন নার্গিস মাকসুদ। তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেরার সময় আবুল কাউসার আশা ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি পক্ষ জোরপূর্বক তাঁর ছেলে শুভর অফিসে প্রবেশ করে। সেখানে ভাঙচুরের পাশাপাশি কর্মরত ম্যানেজারদের মারধর করা হয় এবং পরে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
নার্গিস মাকসুদের আরও অভিযোগ, তাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। পেপার মিলের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত আলোচনার বিষয়টি আলাদা হলেও সেখানে অন্য পক্ষের হস্তক্ষেপ এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নার্গিস মাকসুদ। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আবুল কাউসার আশা বলেন, “আমরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে গিয়েছি। পরে কী হয়েছে, আমার জানা নেই।”
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা খবর পেয়ে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে এসেছি। কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে অবগত নই। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।