নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, “অতীতের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য এখানেই যে, অতীতে জনগণের সরকার ছিল না। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “যেহেতু আমরা জনগণের পাশে ও সঙ্গে আছি, জনগণকে পাশে রেখেই ইনশাআল্লাহ ঈদুল আজহাতেও সুন্দরভাবে ও শ্রমবান্ধব নীতিমালার মাধ্যমে সকল শ্রমিকের বেতন-ভাতা ও বোনাস নিশ্চিত করা হবে।”
রোববার (১০ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলে সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ও ছুটি প্রদান বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভাশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমাদের বৃহত্তর পরিকল্পনা হলো বাংলাদেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। সেখানে নতুন কোনো কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য দুর্নীতি করতে হবে না এবং অনেকগুলো ট্রেড লাইসেন্সের প্রয়োজনও হবে না। আমরা স্ট্রিমলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ সল্যুশন নিশ্চিত করতে চাই। দেশে যত বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, সেক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হবে কীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়।”
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেভাবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, একইভাবে শিল্প, ব্যবসা ও বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ক্ষেত্রেও কীভাবে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে কর-সুবিধা বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।”
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আবারও নতুন করে নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল শিল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জে উৎপাদিত টি-শার্ট বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই স্বীকৃতি পেয়েছে। সুতরাং প্রাচ্যের ডান্ডি আবার না হলেও অবশ্যই নারায়ণগঞ্জকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব “
রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের পরিচয় মাঝখানে অভয়ারণ্য ও বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের কেন্দ্র হিসেবে ছিল। এখানে সন্ত্রাস ছিল। তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জে সুশাসন, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের ক্ষমতার দল এই মুহূর্তে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। স্থানীয় পর্যায়ে যারা নেতৃত্বে রয়েছেন এবং সংসদে যারা প্রতিনিধিত্ব করছেন, তারা জনগণের কথা বলবেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবেন। তাহলেই আমরা নারায়ণগঞ্জকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে পারব। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী, বিকেএমএই’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য মেহেদী হাসান, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু প্রমুখ।