নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করেছে জেলা প্রশাসন। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা, প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এ উপলক্ষে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় জেলার বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
এ ছাড়া জেলার হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধন কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
বিকেলে নারায়ণগঞ্জ ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন দল ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন দলের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলায় জেলা প্রশাসন দল জয়লাভ করে।
সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হয়েছিল। জাতীয় ঐক্য ও সংহতির এই চেতনাকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীক। এ দিনের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে দেশাত্মবোধক গানের আসর অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন সিনেমা হল এবং ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের মাধ্যমে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ওপর প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলার সব শিশু পার্ক শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন।