নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ শহরে অবৈধ ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপের পর এবার বৈধ ইজিবাইক ও মিশুকের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে যাত্রীদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, আগে যে পথে ১০ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো, সেই পথেই এখন ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন কোনো কোনো চালক। কোথাও কোথাও ভাড়া বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এতে প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় কাজে শহরে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে বাড়তি খরচের চাপে পড়তে হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, নগরীতে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণের পর পরিবহনসংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু চালক নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণ করছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইক ও মিশুকের একাংশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত বা প্রচলিত ভাড়ার চেয়ে বেশি দিতে আপত্তি জানালে কোনো কোনো ক্ষেত্রে চালকদের সঙ্গে যাত্রীদের কথা-কাটাকাটিও হচ্ছে।
**একই পথে ভাড়া দ্বিগুণ**
নগরীর মেট্রো হল মোড় থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত মিশুকে আগে জনপ্রতি ভাড়া ছিল ৫ টাকা। বর্তমানে একই পথে চারজন যাত্রী নিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে অল্প দূরত্বে যাতায়াত করতেও আগের তুলনায় দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাঁদের।
শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কের পাশাপাশি শহরতলি থেকে নগরীতে প্রবেশের পথেও ভাড়া নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। যাত্রীদের দাবি, কিছু ইজিবাইক নির্ধারিত পথ এড়িয়ে ঘুরপথে চলাচল করছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় বেশি লাগছে, পাশাপাশি বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে।
**মেট্রো হলেই আটকে যাচ্ছে ছয় আসনের ইজিবাইক**
যাত্রীদের আরেকটি অভিযোগ, চিটাগাংরোড-আদমজী-চাষাঢ়া সড়কে চলাচলকারী ছয় আসনবিশিষ্ট ইজিবাইকগুলোকে আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে এসব ইজিবাইক মেট্রো হল মোড়েই আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এর ফলে সিদ্ধিরগঞ্জ ও আদমজী এলাকা থেকে শহরে আসা যাত্রীদের মেট্রো হল মোড়ে নেমে অন্য যানবাহনে করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে একই যাত্রায় একাধিক যানবাহন ব্যবহার করতে হচ্ছে তাঁদের। বাড়ছে যাতায়াতের খরচ, নষ্ট হচ্ছে সময়, তৈরি হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি।
ভুক্তভোগীদের মতে, চিটাগাংরোড ও আদমজীগামী ছয় আসনের ইজিবাইকগুলোকে আগের মতো মিশনপাড়া পর্যন্ত চলাচলের সুযোগ দেওয়া হলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি কোন পথে কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।
**সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ**
ইজিবাইক ও মিশুকের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন অনেকে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান তাঁর ফেসবুক পোস্টে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিশুক ও অটোরিকশার কয়েকজন চালকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তোলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নারায়ণগঞ্জের যে সকল মিশুক ও অটোওয়ালারা সিটি লাইসেন্স পেয়েছে, তারা যেন হাতির পাঁচ পা দেখে ফেলেছে! কিছু ক্ষেত্রে দ্বিগুণ ভাড়া চাচ্ছে! গেলে যান, না গেলে নাই!’
একই পোস্টে নবীগঞ্জ ঘাট থেকে মিশনপাড়া পর্যন্ত মিশুকে যাতায়াতের জন্য তাঁর কাছ থেকে ৬০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
**ভাড়া নির্ধারণ ও নজরদারির দাবি**
যাত্রীদের অভিযোগ, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। ফলে নগরীতে চলাচলকারী কিছু যানবাহনের চালক পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন বলে তাঁদের আশঙ্কা।
তাঁদের মতে, নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট কমানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা, আর্থিক সামর্থ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনও বিবেচনায় রাখা দরকার।
এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। তাঁদের দাবি, নগরীতে চলাচলকারী ইজিবাইক ও মিশুকের পথভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে তা প্রকাশ্যে টাঙানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাচাই, নিয়মিত তদারকি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
যাত্রীদের প্রত্যাশা, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গণপরিবহনে ভাড়া ও চলাচলের নিয়ম নিশ্চিত করা হলে নগরীর পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।