নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
মো: মিঠুন মিয়া (স্টাফ রিপোর্টার) নারায়ণগঞ্জ :
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ আয়োজনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিশুদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী খেলার মাঠ নিশ্চিত করা, মাঠ সংস্কার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ফুটবলের পাশাপাশি হকি খেলায় আগ্রহ সৃষ্টি এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
সভায় বক্তারা বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত খেলার মাঠের সংকট দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী মাঠের ব্যবস্থা করা জরুরি। ছোটদের প্রাথমিক পর্যায়ের ম্যাচগুলো তুলনামূলক ছোট মাঠে আয়োজন করা হলে তাদের জন্য খেলাটি আরও সহজ ও আনন্দদায়ক হবে। একই সঙ্গে বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় বড়দের ম্যাচের জন্য বড় মাঠ ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে।
সভায় নারায়ণগঞ্জ স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন খেলার মাঠ শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। মাঠের সংস্কার, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, রেফারিদের সম্মানী এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আলাউদ্দিন মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব উঠে আসে। বন্দরের বিভিন্ন মাঠও খেলাধুলার জন্য যথাযথভাবে ব্যবহারের উপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, শুধু মাঠ তৈরি করলেই হবে না, মাঠে যাতায়াতের সড়কসহ আশপাশের অবকাঠামোও সংস্কার করতে হবে। খেলাধুলার আয়োজনকে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও ঝামেলামুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। টুর্নামেন্ট চলাকালে মাঠে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খেলা শেষে কোনো শিশু যাতে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। প্রয়োজনে অভিভাবকের উপস্থিতি বা অনুমতি ছাড়া কোনো শিশুকে মাঠ থেকে বের হতে না দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী, জার্সি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই খেলোয়াড় তৈরির কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া গেলে জাতীয় পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এ সময় বক্তারা স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসময় নারায়ণগঞ্জ থেকে জাতীয় পর্যায়ে ১০-১৫ জন পর্যন্ত ফুটবলার খেলেছেন। বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা অনেকটাই কমে গেছে। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরি করে নারায়ণগঞ্জের ফুটবলের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিতে হবে।
ফুটবলের পাশাপাশি হকি খেলাকেও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, মাঠের স্বল্পতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক প্রতিভাবান শিশু-কিশোর খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক ও ক্রীড়াবিদদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় আরও বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ একসময় ফুটবলের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। এই জেলার মাটি থেকেই জাতীয় পর্যায়ে বহু ফুটবলার উঠে এসেছেন। সেই পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন, মাঠ উন্নয়ন ও প্রতিভা অন্বেষণের কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
এ সময় বক্তারা শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি এবং একটি সুস্থ, মাদকমুক্ত ও সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর ক্রীড়া উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায় থেকেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়ানুরাগী অ্যাডভোকেট বারী ভূঁইয়া, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার এ্যামেলি, স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ক্রীড়ানুরাগী রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও ক্রীড়ানুরাগী মশিউর রহমান রনি, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ক্রীড়ানুরাগী মাজাহারুল ইসলাম জোসেফ, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মো. সুজন, জাতীয় দলের ফুটবলার মো. সোহেল, মিঠু, এম আর মামুন, নারায়ণগঞ্জ জেলা তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উজ্জল, মাজেদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রীড়ানুরাগী ও নেতৃবৃন্দ।