
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নবীগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজসংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের অভিযোগে দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মরিয়ম ওরফে সনি, বন্দর থানার কাইতাখালী এলাকার ছবি সরদারের মেয়ে ও ইস্পাহানি আকিজ গেট এলাকার রফিক মিয়ার স্ত্রী সনি এবং নবীগঞ্জের জালাল সরদার মসজিদসংলগ্ন এলাকার জানু মিয়ার ছেলে রাজিব। তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংখ্যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ এলাকার ভবনটির নিচতলার ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে অপরিচিত নারী-পুরুষের যাতায়াত নিয়ে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির মালিক অপু সারোয়ারের সংশ্লিষ্টতায় ওই ফ্ল্যাটে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে ওই ফ্ল্যাটে এক তরুণ ও এক তরুণী প্রবেশ করলে সন্দেহের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সেখানে যান। এ সময় ফ্ল্যাটের ভেতরে আপত্তিকর অবস্থায় কয়েকজনকে দেখতে পান বলে তাঁরা দাবি করেন। পরে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামত পাওয়ার কথাও জানান তাঁরা।
খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশের এসআই বিনয় ও এএসআই হাবিব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে দুই নারীসহ তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার সময় ভবনটির মালিক অপু সারোয়ারকে সেখানে পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে অপু সারোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে ঘটনাস্থলে এসে কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি সেখানে আসেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, নবীগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী ইংরেজি শিক্ষিকা রওশন আরা মীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে আসছেন বলে জানান। এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এমন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে ফ্ল্যাটে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।