
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জনে বিভিন্ন লেখকের বই পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও বিবি মরিয়ম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক সদস্য মনিরুল ইসলাম সজল। একই সঙ্গে ইতিহাসের নানা অধ্যায় সম্পর্কে জানার পাশাপাশি দেশপ্রেম, সততা ও নৈতিকতাকে জীবনের আদর্শ হিসেবে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “ইতিহাস বিকৃতির পথে পা দেবে না। তোমরা বই পড়বে। এ দেশের স্বাধীনতা ও বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন মানুষের লেখা বই পড়বে। কোথায় কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করবে। কারণ একটি সরকার দেশের ইতিহাসকে বিকৃত করেছে।”
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুলে বিবি মরিয়ম গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতা। তাঁর ব্যক্তিগত সততা, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা ও দায়িত্ববোধের চর্চা করতে হবে। দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টে গৃহবন্দী করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি মুক্ত হন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ ঘটনার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সজল বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের পর জাতি যখন চরম সংকটের মুখোমুখি, তখন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা নয়, তিনি সরাসরি রণাঙ্গনে যুদ্ধেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় বলেন—সবার আগে বাংলাদেশ। পৃথিবীর যেসব দেশ উন্নতি করেছে, তারা নিজেদের দেশের আদর্শকে ধারণ করে এগিয়েছে। তোমাদেরও সবার আগে বাংলাদেশকে রাখতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের নেতৃত্ব হিসেবে উল্লেখ করে সজল বলেন, “তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমরাই দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারবে। প্রত্যেক ছেলে-মেয়েকে বলতে হবে—সবার আগে আমার বাংলাদেশ। আমি দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাই না, আমি মুক্ত থাকতে চাই, আমার সিদ্ধান্ত আমি স্বাধীনভাবে নিতে চাই। আর স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হলে সবার আগে দেশকে ভালোবাসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছেন। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও কারাবরণের মধ্যেও দেশের স্বার্থে আপস করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় নতুন প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সজল বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; ইতিহাসের বিভিন্ন দিক জানতে হবে, যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনার চর্চা করতে হবে এবং নিজেদের যোগ্য, সৎ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বিবি মরিয়ম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খুরশিদ আহমেদ তুনিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. খালিদুজ্জামান ভূঁইয়া। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।