নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণের পর তার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে দীর্ঘ দুই বছর ধরে ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানি করে আসছে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। অপহরণের সময় ছিনিয়ে নেওয়া দুটি মোবাইল ফোনের তথ্য ও ছবি ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নম্বর থেকে ভুক্তভোগীকে অব্যাহতভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় চরম মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন ওই ব্যবসায়ী ও তার পরিবার।
মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ জুন নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণ করা হয়। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী তানিয়া আহম্মেদ ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, এই অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী আল আমিন ওরফে জিতু। চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন— কবির হালদার (৩৯), লতিফ সিদ্দিকী রতন (৩৩), সাব্বির আহমেদ (৩০), ইব্রাহিম খলিল (৩১) ও ইমরান হোসেন মোহন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হোতা জিতুসহ অন্যরা এখনও পলাতক।
ভুক্তভোগী সোহাগ জানান, অপহরণের সময় আসামিরা তার ব্যবহৃত দুটি দামী স্মার্টফোন কেড়ে নেয়। এরপর থেকেই শুরু হয় নতুন আপদ। ফোন দুটিতে থাকা ব্যক্তিগত নথি, ছবি ও কন্টাক্ট লিস্ট ব্যবহার করে চক্রটি তাকে অনলাইনে হেনস্তা শুরু করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “চক্রটি বিভিন্ন সময় সাংবাদিক বা অনলাইন মিডিয়াকর্মী পরিচয় দিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা ভুয়া নাম ব্যবহার করে মেসেজ পাঠায় এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে আমার ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন নিউজে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
ভুক্তভোগী আরও জানান, তাকে হয়রানি করতে চক্রটি মালয়েশিয়াভিত্তিক একাধিক আন্তর্জাতিক নম্বর এবং দেশি নম্বর ব্যবহার করছে। মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত হুমকি আসছে। গত দুই বছর ধরে এই ধারাবাহিক ব্ল্যাকমেইলে তিনি ও তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নিরাপত্তা চেয়ে তিনি এ পর্যন্ত ৪ থেকে ৫টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং জেলা পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বর, মেসেজ এবং ডিজিটাল তথ্যগুলো ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জিতুর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে চক্রটির পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।