
প্রচণ্ড গরমে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন পথচারী, ট্রাফিক পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ। তীব্র তাপদাহে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং কর্মজীবী মানুষের কিছুটা স্বস্তি দিতে যৌথভাবে ঠান্ডা পানি, খাবার ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে শহরের চাষাড়া, খানপুর, ২ নম্বর গেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় সড়কে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ, ট্রাফিক ভলান্টিয়ার, অটোরিকশা ও ইজিবাইকচালক, দিনমজুর এবং পথচারীদের হাতে পানি, খাবার ও স্যালাইন তুলে দেওয়া হয়।
তীব্র গরমের মধ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের এ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেন উপকারভোগীরা। জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ সময় সড়কে অবস্থান করা শ্রমজীবী মানুষের কাছে এ উদ্যোগ তাৎক্ষণিক স্বস্তির পাশাপাশি প্রশাসনের মানবিক দায়িত্ববোধেরও বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঠান্ডা পানি ও স্যালাইন পেয়ে ইজিবাইকচালক মতিন মিয়া বলেন, “প্রচণ্ড রোদে সারাদিন গাড়ি চালাতে হয়। এতে গলা শুকিয়ে যায়, অনেক কষ্ট হয়। এমন পরিস্থিতিতে পানি ও স্যালাইন পেয়ে সত্যিই ভালো লাগছে। মানুষের স্বস্তির কথা চিন্তা করে যারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “রোদের প্রখরতার মধ্যেও জীবিকার তাগিদে মানুষকে রাস্তায় বের হতে হচ্ছে। তীব্র গরমে পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষ যেন কিছুটা স্বস্তি পান, সেই চিন্তা থেকেই আমাদের এ উদ্যোগ। জনগণের পাশে থাকাই প্রশাসনের দায়িত্ব। শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেও আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাই।”
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রচণ্ড রোদে পুলিশ সদস্য ও ভলান্টিয়াররা দীর্ঘ সময় সড়কে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষও তীব্র গরমে কষ্টের মধ্যে কাজ করেন। তাঁদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। জনসেবায় পুলিশ সবসময় মানুষের পাশে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক পুলিশিং নিশ্চিত করাও আমাদের অঙ্গীকার।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক ইনচার্জ জিয়াউদ্দিন জিয়া বলেন, “তীব্র তাপদাহে সড়কে দায়িত্ব পালন করা খুবই কষ্টকর। কিছুক্ষণ পরপরই গলা শুকিয়ে যায়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের এ উদ্যোগে ট্রাফিক সদস্য, ভলান্টিয়ার ও অটোরিকশাচালকরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। দায়িত্ব পালনের সময় ঠান্ডা পানি, খাবার ও ওরস্যালাইন পেয়ে আমরা উজ্জীবিত। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ আমাদের মনোবল বাড়ায়।”
সচেতন মহল মনে করছে, তীব্র গরমে জনদুর্ভোগ কমাতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের এমন যৌথ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাব বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ অন্যান্য জেলার জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।
এদিকে, এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনকে এ ধরনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার এবং সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।