
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদে অসহায়ত্বের কথা উঠে আসার পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সাল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ফয়সালের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন তিনি।
বুধবার সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন ফয়সালের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সঙ্গে অর্থের অভাবে চিকিৎসা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুদানের চেক গ্রহণের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সাল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। এ সময় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক অক্ষমতা ও চরম আর্থিক সংকটে ভুগছেন।
ফয়সাল হাওলাদার বলেন, “হামলার পর থেকে আমার ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আমার অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।”
তিনি আরও বলেন, “সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর। তিনি আমার অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা আমার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।”
উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সাল বলেন, “প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়, যা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়ক হবে।”
চেক হস্তান্তরকালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সালের অসহায়ত্বের বিষয়টি জানতে পারি। তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে তার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তার হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।”
তিনি আরও বলেন, “অর্থের অভাবে এই তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। ভবিষ্যতেও তার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসনের এমন সহযোগিতায় ফয়সালের চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।