নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, সুন্দর ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। তিনি বলেছেন, “আমরা সকলকে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ, সুন্দর এবং সাবলীলভাবে যাতে আমাদের এই দেশটাকে পরিচালনা করতে পারি, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এমন একটা দিন নিয়ে আমরা কথা বলছি, যেটি আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ।”
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মো. রায়হান কবির বলেন, সে সময় রাষ্ট্র একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল।
৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে সিপাহী ও জনতার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই দিন সিপাহী ও জনতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে দেশের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করেছিলেন। এ ঘটনাকে অসাধারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত প্রত্যেকের উচিত মুক্তিযুদ্ধ, ৭ নভেম্বর এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে দায়িত্ব পালন করা। একই সঙ্গে নাগরিকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সংহতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ প্রসঙ্গে রায়হান কবির বলেন, “তিনি কখনো ভেদাভেদ করেন নাই। তাঁর জীবদ্দশায় আমরা যতটুকু দেখেছি, জেনেছি, তিনি সকলকে নিয়েই উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছেন।”
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। এ ছাড়া জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।