
নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় শ্রী শুভ চন্দ্র দাস (৩০) হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোঃ সাকিব সরকার দিমুন ওরফে ধিমন (২৩) নামে আরও এক আসামিকে নরসিংদী থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে নরসিংদী সদর থানার শিলমান্দী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পরে ধিমনকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়ক থেকে শুভ চন্দ্র দাসের গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত শুভ চন্দ্র দাস নারায়ণগঞ্জ সদর থানার গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা এবং শ্রী হরি চন্দ্র দাসের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি সদর মডেল থানার মামলা নং-০৮, তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬; এতে পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশে এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করে পুলিশ। এ সময় ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এছাড়া সুমন নামে একজনকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আটক আসামিদের জবানবন্দি এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় ধিমনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান।
এরপর ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএমের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে নরসিংদী সদর থানার শিলমান্দী এলাকা থেকে ধিমনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত ধিমন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ (পাঠানতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে) এলাকার নাদির সরকারের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, শুভ হত্যাকাণ্ডে ধিমনের ভূমিকা এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।