
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছর পূর্ণ করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দলটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। তবে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য যেমন গৌরব ও প্রত্যয়ের, তেমনি বেদনারও। কারণ দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অন্যতম প্রধান নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ মৃত্যুবরণ করেন।
এ উপলক্ষে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে নাসিক ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মিয়া চাঁন বলেছেন, “গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছর—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল ও সার্থক হোক।”
তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা রাজনৈতিক পরিবর্তন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দলটি দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম ভিত্তি ছিল ১৯ দফা কর্মসূচি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দলটি দেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে সাংগঠনিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে এবং ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে।
পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হলেও রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত থাকার চেষ্টা অব্যাহত রাখে।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। ১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিকে সামনে থেকে পরিচালনা করেন। বিএনপির নিজস্ব ইতিহাসে তাঁকে দলের চেয়ারপারসন হিসেবে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির সাংগঠনিক বিস্তার এবং দেশের রাজনীতিতে দলটির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়।
মো. মিয়া চাঁন বলেন, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি গভীরভাবে অনুভূত হবে। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অন্যতম প্রধান নেতৃত্ব। তাঁর মৃত্যু দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সময়ে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর স্মৃতি স্মরণ করছি এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।”
বিএনপির পক্ষ থেকেও তাঁর মৃত্যুর পর সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল এবং দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ ও কোরআন খতমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মো. মিয়া চাঁন আরও বলেন, ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় বিএনপি নানা আন্দোলন, সংকট ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে তিনি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাস ত্যাগ, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের ইতিহাস। এই দীর্ঘ পথচলায় যারা দলের জন্য জীবন দিয়েছেন, নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন এবং সংগঠনকে ধরে রেখেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপির রাজনৈতিক পথচলা আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে—এটাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রত্যাশা।
সবশেষে মো. মিয়া চাঁন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, “গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছর পূর্ণ করে বিএনপি আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে এগিয়ে যাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল ও সার্থক হোক।”