
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় মাঠপর্যায়ে সরাসরি উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
তবে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে চলমান এ কঠোর অভিযান ও অপরাধবিরোধী কার্যক্রমের মধ্যেই পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে আটক ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিশেষ অভিযানকে কেন্দ্র করে এমন একটি অভিযোগ সামনে এসেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা শিল্পনগরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে একজনকে আটকের পর ছেড়ে দিয়ে তার পরিবর্তে একজন ডাব বিক্রেতাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সারোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে মেঘনা শিল্পনগরী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শামসুজ্জামান সামসুর ছোট ভাই আমিনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের দাবি, আমিনকে ছেড়ে দেওয়ার পর তার পরিবর্তে অন্য একজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে বলা হয়। এর পর আমিন ও তার সহযোগীদের মাধ্যমে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ডাব বিক্রেতা মনির হোসেনকে আটক করে পুলিশ নিয়ে যায়।
এ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আমিনকে ছেড়ে দিয়ে তার পরিবর্তে নিরীহ ডাব বিক্রেতা মনির হোসেনকে আটক করা হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে মনির হোসেনকে আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে দাবি করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আটক করা হলে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও আইনগত ভিত্তি থাকা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মনির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ডাব বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগে আটক করা হয়ে থাকলে বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে একজনকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া এবং অন্য একজনকে আটক করার বিষয়টিও স্বচ্ছভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।
স্থানীয়দের মতে, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে অপরাধ দমনে যে কঠোর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, তা কার্যকর রাখতে থানাপুলিশের প্রতিটি পর্যায়ের কার্যক্রমে জবাবদিহি ও তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া, অর্থ লেনদেন কিংবা নিরীহ ব্যক্তিকে হয়রানির মতো অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। এতে একদিকে নিরপরাধ মানুষ হয়রানি থেকে রক্ষা পাবেন, অন্যদিকে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে চলমান অপরাধবিরোধী কার্যক্রমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও আরও দৃঢ় হবে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, মনির হোসেনকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তাকে কেন আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
আমিনকে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত নন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।