নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
ফতুল্লায় একের পর এক সংঘর্ষ, অবরুদ্ধ ও হত্যার অভিযোগ—সব মিলিয়ে বারবার আলোচনায় আসছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মাহমুদ। তবে এসব ঘটনার পরও তিনি রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার এনায়েতনগর শাসনগাঁও চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ঝুট (ওয়েস্টেজ) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন আহত হন। এই সংঘর্ষের ঘটনায়ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মাহমুদের নাম উঠে এসেছে।
জানা গেছে, চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ‘ডয়েজল্যান্ড’ নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় হাতবোমা বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে রাকিব ও ইমরান গুলিবিদ্ধ হন এবং ককটেলের আঘাতে রফিক আহত হন।
এমপি অবরুদ্ধের ঘটনায় নেতৃত্বে রাসেল
এর আগে ৩ মার্চ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এড. আব্দুল্লাহ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ। ওই ঘটনায় বিসিক এলাকায় এমপিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। কয়েকজন যুবকের হাতে হকিস্টিক ও বাঁশ দেখা যায়। দুই ঘণ্টা পর পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে চাষাঢ়ায় এনসিপি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এমপি অভিযোগ করেন, রাসেল মাহমুদের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
হত্যা মামলায় আসামি করায় বাদীকে পুলিশে দেয়া
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু হত্যার মামলার প্রধান আসামি রাসেল মাহমুদ। নিহতের ভাই ও মামলার বাদী আবুল কাশেম বাদশা অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই রাসেল মাহমুদ তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
গত ২ এপ্রিল আদালতে হাজিরার পর ফেরার পথে চাঁদমারী এলাকায় ১৫-২০ জন যুবক তার পথরোধ করে লাঞ্ছিত করে এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় রাসেল মাহমুদের অনুসারীরাই জড়িত।
ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, রাসেল মাহমুদ একটি সশস্ত্র গ্রুপের মাধ্যমে বিসিক এলাকায় গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। ব্যবসায়ী নেতা হাতেমের সহযোগিতায় তিনি এ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আগের সংঘর্ষ
এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিসিক ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন এলাকায় মার্টিন নিট ওয়্যার ও বিশাল নিট ওয়্যারের সামনে সংঘর্ষে অন্তত ১০-১২ জন আহত হন। তখন অভিযোগ ওঠে, রাসেল মাহমুদ ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
একাধিক সংঘর্ষ, অবরুদ্ধ ও হত্যা মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে নাম জড়ালেও বরাবর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন রাসেল মাহমুদ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে— এত অভিযোগের পরও কেন তিনি এখনো বিচার ও প্রশাসনের চোখে অধরা।