
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি আইভীর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা, সততা ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে আইভীর পেছনে কেউ স্লোগান দিলে তার দায় সরাসরি তাঁর ওপর চাপানোরও বিরোধিতা করেন তিনি।
টকশোতে গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘সেলিনা হায়াৎ আইভী এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ।’ তাঁর মতে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মাঠের রাজনীতিতে আইভীর মতো জনপ্রিয়তা দেশের অন্য কোনো রাজনীতিবিদের নেই।
আইভীর রাজনৈতিক সাফল্য প্রসঙ্গে রনি বলেন, কাজের মধ্য দিয়েই তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর সততা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তাঁর প্রতি সমর্থন ও আস্থা রাখেন বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।
সেলিনা হায়াৎ আইভীর পেছনে কেউ স্লোগান দিলে তার দায় তাঁর ওপর চাপানোর প্রবণতার সমালোচনা করে রনি বলেন, ‘পেছন থেকে একজন জয় বাংলা বলে ফেলছে, এখন এজন্য একটা জয় বাংলা বলে ফেলল আর সঙ্গে সঙ্গে আপনি সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ধরবেন, দ্যাট শুড নট বি।’
আইভীর পাশে দাঁড়ানো দুই আইনজীবীর প্রসঙ্গও আলোচনায় তুলে ধরেন গোলাম মাওলা রনি। তাঁর দাবি, ওই দুই আইনজীবীর কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁদের একজন উদীচীর সভাপতি ছিলেন এবং তাঁরা জুলাই আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ব্যঙ্গাত্মক উদাহরণ দিয়ে রনি বলেন, অতীতে রাজাদের চলাচলের সময় ঢোল পিটিয়ে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রচার করা হতো। একইভাবে, আইভীর পাশে দাঁড়ালে কিংবা তাঁর আশপাশে কেউ স্লোগান দিলে আইনজীবীদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে—এমন ঘোষণা আগে দেওয়া থাকলে তাঁরা হয়তো সেখানে যেতেন না। আর গেলেও উপস্থিত ব্যক্তিরা স্লোগান দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গোলাম মাওলা রনি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি জয়ী হতে পারেননি।
গোলাম মাওলা রনির এই মন্তব্যে সেলিনা হায়াৎ আইভীর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা, তাঁর প্রতি জনসমর্থন এবং তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।