নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার ছোট মোল্লারচর গ্রামে বখাটেদের ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় এক দোকানদারকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা দোকানের মালামাল কেনার নগদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাটনাকান্দি এলাকার আফসর উদ্দীনের ছেলে আশরাফুল এবং মোল্লারচর এলাকার সুরুজ মিয়ার ছেলে আলামিন দীর্ঘদিন ধরে এক বিবাহিত নারীকে উত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী নারীর আত্মীয় ও স্থানীয় দোকানদার মো. আলম প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালদী বাজারে দোকানের মালামাল কিনতে যাওয়ার পথে আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতা মফিজুলের নির্দেশে একটি সংঘবদ্ধ দল এ হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। পরে তার কাছে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত রুস্তমের দুই ছেলে রনি ও সাফায়েত, আফসর উদ্দীনের ছেলে আশরাফুল, সুরুজ মিয়ার দুই ছেলে আলামিন ও তাহের, এবং যুবলীগ নেতা বিল্লালের দুই ছেলে রাসেল ও ফয়সাল। এলাকাবাসীর দাবি, মফিজুলের নেতৃত্বেই এ হামলা পরিচালিত হয়।
গুরুতর আহত আলম বর্তমানে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে মোল্লারচর ও আশপাশের এলাকায় ইভটিজিং, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।