নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের এক ব্যবসায়ীকে মোবাইলে ফোন দিয়ে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
এ বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরে এ শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, আদমজী ইপিজেড এলাকার এক ব্যবসায়ীকে গর্হিত ভাষায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাহেদ আহমেদের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী যুবদল যখন বন্যায় পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যস্ত, তখন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তার এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন দুঃখজনক, তেমনি তা সংগঠনের জন্য বিব্রতকর।
নোটিশে সংগঠনের সুনাম ও শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এ কর্মকাণ্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির সম্মুখে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে সাহেদ আহমেদ এর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল জানান, সংগঠনের দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে এই ধরনের ব্যবহার কাম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এগুলো ভাইরাল হলে সংগঠনের সুনাম ক্ষুন্ন হয়। তাই সংগঠন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আমার জানা নেই, তবে তাকে ২৪ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছে, কারণ দর্শানোর জন্য।
প্রসঙ্গত, আদমজী ইপিজেডে একটি ঠিকাদারি কাজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সানজিদা গ্রুপের প্রতিনিধি ফরহাদের সঙ্গে সাহেদ আহমেদের মোবাইল কলের কথোপকোথন একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রচারিত অডিওতে শুনা যায়, সাহেদ অপরপ্রান্তে থাকা ব্যবসায়ীকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করছেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। প্রতি উত্তরে ওই ব্যবসায়ী গালিগালাজ করার কারণ জানতে চাইলে সাহেদ আরো উত্তেজিত হয়ে উঠেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আদমজী ইপিজেডের একটি ঠিকাদারি কাজ পায় চট্টগ্রামের সানজিদা গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। একই কাজের টেন্ডার জমা দিয়েছিলেন সাহেদ নিজেও। তবে তিনি কাজ না পাওয়ায় অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেন।