নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) নজরুল ইসলাম আজাদ। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে তিনি শহরের আমলাপাড়া পূজামণ্ডপ, টানবাজার সাহাপাড়া পূজামণ্ডপ, উকিলপাড়া পূজামণ্ডপসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের স্লোগান—‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। আমরা সবাই বাংলাদেশি, আমরা সবাই ভাই ভাই, আমরা সবাই বোন বোন। আমরা সবাই এক, আমরা সবাই অভিন্ন। ধর্ম ও মতের ভিন্নতা থাকলেও আমাদের জাতীয় পরিচয় এক—আমরা বাংলাদেশি।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। এই সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এমপি আজাদ আরও বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এখন সর্বজনীন আনন্দ ও সম্প্রীতির উপলক্ষ। উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। কোনো ধর্মের মানুষ যেন নিজেদের বিচ্ছিন্ন বা অনিরাপদ মনে না করেন, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন, সবাই সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন। ধর্মের কারণে কারও মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হোক, তা আমরা চাই না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে হবে।”
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি উৎসবের সার্বিক পরিবেশ, পূজার আয়োজন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি উপস্থিত ভক্ত, স্থানীয় নেতাকর্মী ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ে অংশ নেন।
নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই প্রত্যাশা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে উৎসব উদ্যাপন করবেন এবং দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখবেন।
মহানবমীতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে তাঁর এ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। এ সময় উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাই প্রাধান্য পায়।