
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে ঐশী পোদ্দার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ঐশী পোদ্দার উলুকান্দি গ্রামের শান্ত কুমার রায়ের স্ত্রী এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শাহাপাড়া এলাকার শংকর পোদ্দারের মেয়ে।
নিহতের বাবা শংকর পোদ্দার অভিযোগ করে বলেন, প্রায় তিন মাস আগে শান্ত কুমার রায়ের সঙ্গে ঐশীর বিয়ে দেন তিনি। বিয়ের সময় জামাইপক্ষকে নগদ ১২ লাখ টাকা এবং প্রায় ১২ ভরি ওজনের বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই আরও যৌতুকের টাকার জন্য স্বামী শান্ত কুমার রায়, শ্বশুর শিবু চন্দ্র রায় ও শাশুড়ি লক্ষ্মী রানী রায় ঐশীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় প্রায় দেড় মাস আগে শান্ত কুমার রায়কে আরও দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ তার।
শংকর পোদ্দারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সদস্যরা ঐশীকে শ্বাসরোধে ও দেয়ালে মাথা আঘাত করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে পাশের এলাকায় থাকা ঐশীর এক মামা ফোন করে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান।
এদিকে, একই রাতে উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে ঝর্ণা (৩০) নামে আরেক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত ঝর্ণা ওই এলাকার আব্দুল আলীর মেয়ে এবং নাদিমের স্ত্রী।
পুলিশ দুটি মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় ঐশীর স্বামী শান্ত কুমার রায়, শ্বশুর শিবু চন্দ্র রায় ও শাশুড়ি লক্ষ্মী রানী রায়কে আটক করা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, ‘দুটি মরদেহই উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঐশীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’