নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মমিনুল মোমেন শিকদার ওরফে আনোয়ার হোসেন এখন রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সচেতন মহলের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মোমেন শিকদার নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, সোনারগাঁয়ের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তার বিভিন্ন সময়ের ছবি দেখিয়ে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন এমপি কায়সার হাসনাতের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে বিপুল অর্থের জোগান এবং তার তৎকালীন পিএস আশরাফুজ্জামানের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন মোমেন শিকদার। পাশাপাশি শামীম ওসমানের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততারও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।
তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মোমেন শিকদার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের। তাদের দাবি, সম্প্রতি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে এবং কেন্দ্রীয় ও প্রবাসী বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে তিনি নিজেকে দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের আরও অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীকে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এতে দলের তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
এদিকে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন নিয়েও মোমেন শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিআইডব্লিউটিএর মেঘনা নদী খনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একটি বালু উত্তোলন সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। রাতের আঁধারে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যারা ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ থেকে সুবিধা নিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তাদের একটি অংশ এখন বিএনপির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে দলীয়ভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোমেন শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে শামীম ওসমানের সঙ্গে তার পরিচয়ের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, “লন্ডনে শামীম ওসমানের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। শামীম ওসমানের সঙ্গে ছবি থাকলেই আমি খারাপ হয়ে গেলাম না।”
মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তার লোকজন এ ঘটনায় জড়িত ছিল বলে তিনি স্বীকার করেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
এদিকে মোমেন শিকদারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোমেন শিকদারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।