নিউজ ২৪ নারায়ণগঞ্জঃ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির ব্যানারে আয়োজিত এই দলীয় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা-কর্মীরা একে ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব’ ও ‘রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
গত ৩০ মে ধামগড় ইউনিয়নে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন শেখ রাসেল ক্রীড়া একাডেমির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার হাবিবুর রহমান। একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেতার সভাপতিত্বে বিএনপির অফিশিয়াল কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ায় খোদ দলটির ভেতরেই চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মহানগর বিএনপির ঘোষিত ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে বন্দরের ৫টি ইউনিয়নে এই দোয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু এই কর্মসূচির স্থান ও সময় নির্ধারণ করেন।
বন্দরের অন্যান্য ইউনিয়নের কর্মসূচিতে মহানগর ও উপজেলার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও ধামগড়ের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না ধামগড় ইউনিয়ন কিংবা বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ। এমনকি কর্মসূচির মূল ব্যানারেও স্থানীয় ও উপজেলা কমিটির শীর্ষ নেতাদের নাম রাখা হয়নি।
তবে অনুষ্ঠানটি বড় ধরনের সমালোচনার জন্ম দেয় যখন দেখা যায়, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ মূল ধারার নেতারা এটি বর্জন করলেও, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এই বিতর্কিত অনুষ্ঠানে সশরীরে যোগ দেন।
এ বিষয়ে ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিয়া তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আওয়ামী লীগ নেতার সভাপতিত্বে বিএনপির অফিশিয়াল প্রোগ্রাম কীভাবে হয়, তা আমাদের জানা নেই। এই কর্মসূচির সাথে ইউনিয়ন বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। মূলত ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হামজা একক সিদ্ধান্তে এই বিতর্কিত আয়োজনটি করেছেন।
একই বিষয়ে ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদ খন্দকার বলেন,আমরা ধামগড় ইউনিয়ন বিএনপির মূল কমিটিকে সাথে নিয়ে পৃথকভাবে দোয়ার আয়োজন করেছি। ওই বিতর্কিত অনুষ্ঠানটি কীভাবে এবং কার স্বার্থে করা হয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এই রহস্যজনক আয়োজনের নেপথ্যে থাকা আমির হামজাই এর সঠিক জবাব দিতে পারবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় কর্মীদের মতে, দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর মতো একটি আবেগঘন ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে এভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা